মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৪:৩৫
ইরানের প্রতিরোধ কূটনীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা আখতার আলী বলেন, ইরানের প্রভাব কখনোই অস্ত্রের জোরে নয়, বরং নৈতিক অবস্থানের শক্তিতে প্রতিষ্ঠিত-যে রাষ্ট্র অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস রাখে, তার প্রতি জনগণের স্বাভাবিক আকর্ষণ থাকে। তিনি মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, আমরা ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ইসলামী ঐক্যের স্বার্থে কাজ করি-ফিলিস্তিনের মুক্তি ও কুদসের স্বাধীনতা কেবল ইরানের নয়, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর লক্ষ্য হওয়া উচিত।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দেন এবং জালিমদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সাহস দেন।

আজ আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই-ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিরোধ কূটনীতি কোনো আক্রমণাত্মক কৌশল নয়, এটি নিপীড়িত জাতিগুলোর পাশে দাঁড়ানোর একটি নৈতিক দায়িত্ব। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই আঞ্চলিক আধিপত্য বা সম্প্রসারণবাদের রাজনীতি করে না; বরং এটি মুস্তাদাফিনের (নিপীড়িতদের) পক্ষে অবস্থান নেয় এবং জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিরোধ কেবল সামরিক শক্তির নাম নয়-এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন। ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণ, লেবাননের প্রতিরোধী জনতা, ইয়েমেনের অবরুদ্ধ মানুষ-তাদের সংগ্রাম কেবল ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত নয়, এটি ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াই। ইরান এই লড়াইয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং দাঁড়িয়ে থাকবে, কারণ কুরআন আমাদের শিক্ষা দেয়-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ ۖ

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো, আল্লাহর জন্য সাক্ষী হও" (সূরা মায়িদা: ৮)।

আঞ্চলিক প্রভাবের প্রশ্নে আমি বলতে চাই-ইরানের প্রভাব কখনোই অস্ত্রের জোরে নয়, বরং নৈতিক অবস্থানের শক্তিতে প্রতিষ্ঠিত। যে জাতি নিজের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে, যে রাষ্ট্র অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস রাখে-তার প্রতি জনগণের স্বাভাবিক আকর্ষণ থাকে। এটি আল্লাহর নিয়ম —

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ

"নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন" (সূরা হুজুরাত: ৯)।

আমি সতর্কবাণী উচ্চারণ করতে চাই-যারা ইরানের প্রতিরোধ কূটনীতিকে "সন্ত্রাসবাদ" বা "অস্থিতিশীলতা" বলে প্রচার করে, তারা মূলত নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ রক্ষা করতে চায়। তারা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য চায় না, তারা চায় বিভাজন-শিয়া বনাম সুন্নি, আরব বনাম আজম, রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র। কিন্তু আমরা বলি-এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে। কারণ মুসলিম উম্মাহর রক্ত এক, কিবলা এক, কুরআন এক।

আমি মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানাই-আসুন, আমরা ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ইসলামী ঐক্যের স্বার্থে কাজ করি। ফিলিস্তিনের মুক্তি, কুদসের স্বাধীনতা-এগুলো কেবল ইরানের লক্ষ্য নয়, এগুলো সমগ্র মুসলিম উম্মাহর লক্ষ্য হওয়া উচিত।

পরিশেষে বলতে চাই-ইরানের প্রতিরোধ কূটনীতি শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি নয়, এটি ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার রাজনীতি। এই পথ কঠিন, এই পথে শত্রু অনেক-কিন্তু এই পথই সঠিক পথ। আল্লাহ আমাদের সকলকে সিরাতুল মুস্তাকিমে অবিচল রাখুন।

ওয়াসসালাম।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা আখতার আলী

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha